মেক্সিকো, কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক মার্চেই

প্রতিবেশী দুই দেশ মেক্সিকো ও কানাডার ওপর প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ৪ মার্চ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রতিবেশী দুই দেশ মেক্সিকো ও কানাডার ওপর প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ৪ মার্চ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই দিনে চীনা পণ্যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বসবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এ তিন দেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এখনো প্রাণঘাতী মাদক ও অবৈধ অভিবাসী ঢুকছে এ অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো উচ্চ ও অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে। তাই মহামারীসম এ মাদকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতেই আগামী ৪ মার্চ থেকে শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মেক্সিকো ও কানাডার ওপর কার্যকর হতে যাওয়া ২৫ শতাংশ শুল্ক গত মাসেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় দেশ দুটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমঝোতার পর তা কার্যকরের পদক্ষেপ থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখে চীনের আমদানি পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় চীনা পণ্যে মার্কিন শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২০ শতাংশ।

মেক্সিকো, চীন ও কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের তিন শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার। তিন দেশে একযোগে শুল্কারোপের ফলে মার্কিন ভোক্তাদের জীবনযাত্রার মূল্য বাড়বে। এমনিতেই সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পরপরই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে মার্কিন শেয়ারবাজারে। দিন শেষে ডাউয়ের দরপতন হয়েছে ০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপির দাম কমেছে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ দরপতন হয়েছে নাসডাক কম্পোজিটের।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বাণিজ্য অংশীদার তিন দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খাদের কিনারায় পৌঁছে গেছে। তিন দেশই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন পণ্যে শুল্ক আরোপ করতে পারে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত শুল্কারোপের ঘোষণার পর পরই এর বিরোধিতা করেছেন চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। ফেন্টানিল ইস্যুকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তার। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা একতরফা শুল্ক বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম লঙ্ঘন করছে এবং বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে শুল্ক কার্যকরের ঘোষণার পরপরই নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করছে কানাডা। এক বিবৃতিতে দেশটির বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, ফেন্টানাইল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ অবৈধ চোরাচালান রোধ করার লক্ষ্যে সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এতসব পদক্ষেপের পরও যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যে শুল্ক আরোপ করে তবে তারাও পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।

আরও